অটিজম

শিশুর গ্রস ও ফাইন মোটর ক্রিয়াক্রমের উন্নতির জন্য কী করবেন

সন্তানের অটিজম আছে এমন অভিভাবকদের জন্য

মোটরস্নায়ু কোন কাজ করার সময় শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় করে। এ স্নায়ুর জন্যই দেহের ভারসাম্য রেখে একপায়ে ভর দিয়ে দাঁড়াতে পারা, নির্দিষ্ট লক্ষ্যে কোন কিছু ছুঁড়তে পারা, ডিগবাজি দিতে পারা ইত্যাদি গ্রস-মোটর ক্রিয়া সম্ভব হয়। অটিস্টিক শিশুর মোটরস্নায়ুতে সমস্যা থাকে।

যদি আপনার শিশুর অটিজম শনাক্ত হয়ে থাকে তাহলে খেয়াল করে দেখুন, সে কি কিছুটা সময় এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে? ডান-বাম উভয় পায়ে পালা করে দেখুন। কুতকুত-কিতকিত বা হপস্টেপ খেলার ভঙ্গিতে এক পায়ে লাফিয়ে এগোতে পারে?

শিশুর অটিজম ও অবিন্যস্ত ইন্দ্রিয়ানুভূতি

সন্তানের অটিজম আছে এমন অভিভাবকদের জন্য

আমাদের পাঁচটি ইন্দ্রিয় চোখ, কান, নাক, জিভ ও ত্বকের মাধ্যমে আমরা দৃশ্য, শব্দ, গন্ধ , স্বাদ ও স্পর্শের অনুভূতি পাই। একইসঙ্গে এক বা একাধিক ইন্দ্রিয়ের দ্বারা একাধিক অনুভূতি অর্জন আপনার জন্য অতি সাধারণ বিষয়। কিন্তু আপনার সন্তানের জন্য নয়। আপনার সন্তানের sensory perceptions অর্থাৎ ইন্দ্রিয়সমূহের অনুভূতি সুবিন্যস্ত নয়।

ঘরের মধ্যে ফ্যান চলছে, টিউব লাইট থেকে তীক্ষ্ণ শব্দ আসছে, টেলিভিশনে অনুষ্ঠান চলছে বা গান বাজছে, তার মধ্যে চা খেতে খেতে খবরের কাগজ পড়ছেন, একইসঙ্গে কারও সঙ্গে কথাবার্তা বলছেন- আপনার দৈনন্দিন জীবনের নিয়মিত ঘটনা। কিন্তু আপনার সন্তানের জন্য এতোরকম শব্দ একসঙ্গে শোনা,এতোরকম দৃশ্য দেখা, তার মধ্যে আবার অন্য কাজ চালিয়ে যাওয়া- এটা প্রচণ্ড যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে। তখন তার আচরণে বিরক্তি বা অস্বস্তির প্রকাশ ঘটবে। ঘরের বাইরে রাস্তাঘাটে বা পাবলিক প্লেইসেও একই ঘটনা ঘটতে পারে।

একটি দৃশ্য কল্পনা করুন। বাসায় কেউ এসেছে অথবা আপনার শিশুকে কোথাও নিয়ে গেছেন, এমন অবস্থায় পরিচিত কারো সঙ্গে দেখা হয়েছে। তিনি আপনার সন্তানকে কোলে

অটিজম সচেতনতা: প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ

যে কারণেই হোক না কেন, বাংলাদেশে আমাদের চারপাশের পরিবেশ মূলধারার স্বাভাবিক শিশুদের জন্যই খুব একটা বন্ধুসুলভ নয়। এ অবস্থায় সন্তানের অটিজম থাকলে বাবামায়েরা বাড়তি দুশ্চিন্তায় পড়েন। রাস্তাঘাটে, পাবলিক প্লেইসে, যানবাহনে অধিকাংশ অচেনা লোকজন অটিজম আছে এমন শিশু বা পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির অস্বাভাবিক আচরণের প্রতি বিন্দুমাত্র বিবেচনাবোধ দেখান না। সহৃদয়তা তো বহু দূরের কথা। অসহিষ্ণু মন্তব্য, উপহাস, বিরক্তি কোনকিছুই দেখাতে কার্পণ্য করেন না। শারীরিক আঘাতের ঘটনাও ঘটে। উন্নত দেশগুলোতে শিশুর সঙ্গে রাখা বিশেষ কার্ড দেখিয়ে অনেক জায়গায় আশেপাশের মানুষকে জানিয়ে দেয়া যায় যে এই শিশুটির অটিজম আছে, তার কাছ থেকে কিছু ব্যতিক্রমী আচরণে অন্যদের সহনশীলতা কাম্য। কিন্তু আমাদের মতো জনবহুল এবং সচেতনতার অভাবগ্রস্ত দেশে এই অবস্থা আসতে এখনও অনেক দেরী বলেই অনুমান করতে পারি। আমরা সাধারণ সুস্থ মানুষেরা তাদের দুর্বলতার বিষয়টিই উপলব্ধি করতে পারিনা। এটার নাম দেয়া হয়েছে হিডেন ডিজেবিলিটি; কারণ এখানে অক্ষমতাটা প্রকাশ্য নয়। আমাদের দেশীয় প্রেক্ষাপটে দুর্বল কাউকে সম্মান করার সংস্কৃতি এখনও গড়ে উঠেনি।

যখন পরিবারে একটি

সুপ্ত অক্ষমতা: শিশু ও আমরা - ৬

অটিস্টিক শিশুদের মধ্যে যাদের ইনটেলেকচুয়াল ডিজেবিলিটি নেই, অর্থাৎ অ্যাসপারগার সিনড্রোমে ভুগছে, এমন শিশুদের ১০-২০% নিবিড় যত্ন ও পরিচর্যায় চার থেকে ছয় বছর বয়সের মধ্যে তাদের সীমাবদ্ধতাগুলো একটু একটু করে কমিয়ে আনতে পারে, এবং কিছু অসুবিধা সত্ত্বেও একসময় সাধারণ স্কুলে স্বাভাবিক শিশুদের সাথে পড়ালেখা করতে পারে। আরো ১০-২০% শিশু স্বাভাবিক শিশুদের সাথে পড়তে না পারলেও বাসায় থেকে বা বিশেষায়িত স্কুলে নিবিড় যত্নসহ পড়ার সুযোগ পেলে, ভাষা সহ বিভিন্ন ধরণের প্রশিক্ষণ নিয়ে সমাজে মোটামুটি স্বনির্ভর একটা স্থান করে নিতে পারে। এসব ক্ষেত্রে নিবিড় পরিচর্যার অন্যতম ব্যবহারিক উপায় হলো স্পিচ থেরাপি।

সুপ্ত অক্ষমতা: শিশু ও আমরা - ৫

আগের পর্বের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী স্পিচ থেরাপি নিয়ে লিখতে গিয়ে মনে হল অটিস্টিক শিশুদের বৈশিষ্ট্য ও চিকিৎসা নিয়ে আরও আলোচনার অবকাশ রয়ে গেছে। সেজন্যে এই পর্ব।

চার থেকে ছয় বছর বয়সী অটিস্টিক শিশুদের আরো কিছু বৈশিষ্ট্য

স্বাভাবিক বা মূলধারার শিশুরা সাধারণত চার বছর বয়সের মধ্যেই অন্যদের-- বিশেষ করে সমবয়সীদের-- চিন্তাধারা, কথাবার্তা, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এসব সম্পর্কে ধারণা করতে শেখে। স্কুলে বা ঘরোয়া খেলার আসরে অন্যকে দেখে সে বুঝে নেয়ার চেষ্টা করে একটা বিশেষ খেলায় অংশগ্রহণের জন্য তার ঠিক কী করতে হবে। সে অনুযায়ী দৌড়াদৌড়ি, লাফঝাঁপ, হৈহল্লায় সে নিজেকে নিয়োজিত করে ফেলে। এই প্রক্রিয়াটি এত স্বতঃস্ফূর্তভাবে ঘটে যে কীভাবে ঘটল তা আমাদের নজরে আসেনা। কিন্তু অটিস্টিক শিশুরা এ বয়স থেকে নিজের ভেতর গুটিয়ে যায়। অন্যরা কি করছে- বা ভাবছে এ সংক্রান্ত চিন্তা করার মতো অবস্থা তাদের থাকেনা।

আমাদের দেশে একসময় শিশুরা পাঁচ বা ছ'বছর বয়সের আগে স্কুলে যেতনা। কিন্তু এখন তিন-চারের মধ্যেই প্লে-গ্রুপ বা কিন্ডারগার্টেনে যাওয়া খুব সাধারণ ঘটনা। অটিজম সম্পর্কে বাবা-মায়ের সম্যক জ্ঞানের অভাবে অনেকসময় শিশুর অস্বা

সাম্প্রতিক মন্তব্য