দেশচিন্তা

সিঁদুরে মেঘের ভয়

||১||

ছোটবেলায় গ্রামের বাড়ী বেড়াতে গেলে প্রতিবেশী রমামাসীর বাড়ীতে বেশ যাওয়া হতো, মাসীর ছোটমেয়ে আমার সমবয়সী ছিলো। আশির দশকের গোড়ার দিকে মাসী ছিলো স্বাস্থ্য অথবা ফ্যামিলি প্ল্যানিং অধিদফতরের মাঠকর্মী, তার ঘরজুড়ে বিচিত্র সব পোস্টার, ক্যালেন্ডার, প্রচারপত্র ইত্যাদি হাবিজাবি। ছেলে হোক মেয়ে হোক দু'টি সন্তানই যথেষ্ট, প্রেসিডেন্ট জিয়া নাকি সাত্তার কার বাণী, সঙ্গে দুই পুত্রকন্যাসহ হাস্যমুখ গ্রাম্য কৃষক-গৃহিণীর ছবি। এখন যেমন এসএমসি, সেসময় জন্মনিরোধকের চালু কোম্পানী ছিলো, নামটা যতদূর মনে পড়ে, অর্গ্যানন বাংলাদেশ লিমিটেড। প্রোডাক্টের ছবিঅলা ক্যালেন্ডার আর পোস্টারের নীচে সেই নাম থাকতো। ওইটুকু বয়সে এসব কিছুর মানে বোঝার কারণ নেই, চোখের সামনে বাংলা অক্ষরে লেখা সবকিছুই পড়া চাই, আর আমাদের বোধবুদ্ধিতে ওগুলো ছিলো ঔষধ, বড়রা খায়।

সেই রমামাসী গ্রামে ঘুরে ঘুরে মহিলাদের পরিবার পরিকল্পনার গুরুত্ব বোঝাতো। স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে (তখন কোথায় কেমন ব্যবস্থা ছিলো জানি না) মাঝেমধ্যে ক্যাম্প বসতো, সেখানে গ্রামের মহিলারা যেতো চারপাশে কাপড় দিয়ে ঘেরা রিকশায় চড়ে। কোন কোন দিন দুপুরবেলা জনাকয

অটিজম সচেতনতা: প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ

যে কারণেই হোক না কেন, বাংলাদেশে আমাদের চারপাশের পরিবেশ মূলধারার স্বাভাবিক শিশুদের জন্যই খুব একটা বন্ধুসুলভ নয়। এ অবস্থায় সন্তানের অটিজম থাকলে বাবামায়েরা বাড়তি দুশ্চিন্তায় পড়েন। রাস্তাঘাটে, পাবলিক প্লেইসে, যানবাহনে অধিকাংশ অচেনা লোকজন অটিজম আছে এমন শিশু বা পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির অস্বাভাবিক আচরণের প্রতি বিন্দুমাত্র বিবেচনাবোধ দেখান না। সহৃদয়তা তো বহু দূরের কথা। অসহিষ্ণু মন্তব্য, উপহাস, বিরক্তি কোনকিছুই দেখাতে কার্পণ্য করেন না। শারীরিক আঘাতের ঘটনাও ঘটে। উন্নত দেশগুলোতে শিশুর সঙ্গে রাখা বিশেষ কার্ড দেখিয়ে অনেক জায়গায় আশেপাশের মানুষকে জানিয়ে দেয়া যায় যে এই শিশুটির অটিজম আছে, তার কাছ থেকে কিছু ব্যতিক্রমী আচরণে অন্যদের সহনশীলতা কাম্য। কিন্তু আমাদের মতো জনবহুল এবং সচেতনতার অভাবগ্রস্ত দেশে এই অবস্থা আসতে এখনও অনেক দেরী বলেই অনুমান করতে পারি। আমরা সাধারণ সুস্থ মানুষেরা তাদের দুর্বলতার বিষয়টিই উপলব্ধি করতে পারিনা। এটার নাম দেয়া হয়েছে হিডেন ডিজেবিলিটি; কারণ এখানে অক্ষমতাটা প্রকাশ্য নয়। আমাদের দেশীয় প্রেক্ষাপটে দুর্বল কাউকে সম্মান করার সংস্কৃতি এখনও গড়ে উঠেনি।

যখন পরিবারে একটি

নিপীড়ক শিক্ষক এবং নীতিমালার যৌক্তিকতা: মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া

(এই লেখাটি সামহোয়ারইন ব্লগে প্রকাশিত একটি পোস্ট)

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিপীড়ক শিক্ষকের সাজা চেয়ে বেশকিছু সুলিখিত পোস্ট এসেছে ব্লগে। যেগুলো পড়লাম, কারও সঙ্গে দ্বিমতের সুযোগ নেই। দুটো পোস্টে যথাক্রমে মাহবুব সুমন এবং পারভেজের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে কিছু লেখার ইচ্ছে হল।

মাহবুব সুমন এবং পারভেজের প্রশ্ন মূলত অভিন্ন। কেন এইসব নিপীড়কের বিচারের জন্য আলাদা নীতিমালা প্রয়োজন হবে?

সাম্প্রতিক মন্তব্য