কিছু না

হারিয়ে গ্যাছে খুঁজে পাবোনা...

আমার মা ভুলোমনা গোছের মানুষ। একদঙ্গল অপদার্থের সংসারে সারাদিন শতকোটি ঝামেলা একা সামলে চাকরিও একটা করেন। বিশাল পরিবারের মুরুব্বী হিসেবে সবার খোঁজখবরও তাকে রাখতে হয়। বয়সের ভারে নুয়ে পড়ার বহু আগেই শরীরে নানান উপসর্গ বাঁধিয়ে বসেছেন। তাই মায়ের ভুলোমনা স্বভাবকে আমরা বিশেষ আমল দিইনা। বরং এর সুযোগ নিই পুরোদমে। ছাত্রজীবনে এক পিকনিকের চাঁদা তিনবার চেয়ে তিনবারই পেয়ে গেছি, এমন নজিরও আছে। সেটা জানান দেয়ার পর আবার অপ্রস্তুত মুখে বলেও ফেলতেন, যাহ্ কী বলিস, তুই মজা করছিস না তো আমার সাথে?

দুধওয়ালার টাকাটা কোথায় যেন রেখেছেন, ভুলে যান। পেপারের বিল হারিয়ে বাবার মেজাজের ভয়ে চুপি চুপি হকার ছোকরাকে বাড়তি টাকা ধরিয়ে দিতে গিয়ে শোনেন সেটা ক'দিন আগে তিনি নিজেই চুকিয়েছেন। ওষুধ কিনতে হবে, প্রেসক্রিপশন হারিয়েছেন; তালা খুলতে হবে, চাবিটা এই মাত্র কোথায় রাখলেন ভুলে গেছেন; রান্নাঘরের তাক থেকে পাঁচফোড়নের কৌটোটা গায়েব হয়ে গেছে; দু'দিন হয়ে গেলো মোবাইল ফোনটা পাচ্ছেননা; চিরুনিটা জায়গামতো নেই, ব্যাংকের চেকবইটা উধাও-- এসব মায়ের জন্য অতি সাধারণ ঘটনা। দিনের মধ্যে অনেকবার তাকে দেখা যায় কীসব বিড়বিড় করছেন। কিছু বলছো মা?

বিটিভির ছায়াছন্দ: কমন পড়ে?

[এই লেখাটা আমার খুব প্রিয় ব্লগার-লেখক লুৎফুল আরেফীনের লেখা থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছে।]

গোড়াতে একটু আজাইরা বকবক করি। শোবিজের লোকজন, বিশেষ করে আমাদের দেশের চলচ্চিত্র তারকাদের ব্যাপারে আমার আগ্রহ ব্যাপক। এর কারণটা বলি। ছোটবেলায় একবার শ্রীমঙ্গলের চা-বাগানে বেড়াতে গিয়ে শুটিং দেখেছিলাম এক বিখ্যাত গানের। "চাকবুম চাকবুম চাঁদনী রাতে কিছু বলবো তোমায়"। আবেহায়াত সিনেমায় অঞ্জু আর ওয়াসিমের নৃত্য। এই দৃশ্যটা মাথায় গেঁথে আছে। ("বেদের মেয়ে জোসনা" খ্যাত অঞ্জু ঘোষ এক বিচিত্র সম্পর্কসূত্রে আমার আত্মীয়ও হন; দুনিয়াটা বড় আজব জায়গা)। তারপর বড়বেলায় একবার কক্সবাজার গিয়ে শাবনূরের সঙ্গে কথা হয়েছিল। বলা বাহুল্য, ঐটা তার প্রথম ছবি, খুবই করুণ দশার কস্টিউম আর সস্তা সাজগোজের রোগা শ্যামলা মেয়েটা নিজ থেকেই আশেপাশের সবার সঙ্গে যেচে পড়ে কথা বলছিল, "আপু প্লিজ আমার এই ছবিটা দেখবেন, "চাঁদনী রাতে", এইতো এই বছরেই রিলিজ হয়ে যাবে...

প্রতিদিন শত তুচ্ছে: ধরো বন্ধু আমার কেহ নাই

বৃষ্টি, আরো বৃষ্টি...

বছরের প্রথম বৃষ্টি নেমেছে ঢাকায়; ইমেইল, ফেইসবুক হয়ে ব্লগেও ছুঁয়ে গেছে অবিশ্রান্ত ধারাপাত; টুপটাপ ঝিরঝির ঝুপঝুপ ঝমঝম। বৃষ্টিপ্রিয়তা আমাদের কোষেকোষে রন্ধ্রেরন্ধ্রে; একটুখানি উস্কে দিলেই বাদলাহাওয়া ভেজামাটি সোঁদাগন্ধ সপসপে-জুতো স্রোতনামা-ছাতারা কেবলই চোখে বাষ্প জমায়, মন ভেজায়। অন্য গোলার্ধে অন্য জলহাওয়া; তবু দেখতে পাচ্ছি, শুনতে পাচ্ছি, ভিজে যাচ্ছি, ভিজে যাচ্ছি, মন ভাল হয়ে যাচ্ছে, মন খারাপ হয়ে যাচ্ছে...........

বর্ষা আমার চোখের প্রিয় ঋতু, তবু ওগো বৃষ্টি আমার চোখের পাতা ছুঁয়োনা। এমন দিনে তারে বলা যায়।

আসে হেমন্ত জীবনানন্দে...

অপরবাস্তবের দিন

ওপরতলায় নতুন প্রতিবেশী এসেছে। অল্পবয়সী হাসিখুশী সজ্জন দম্পতি; বাংলা ব্লগজগতের সুপরিচিত নাম। মৌসুমটা বইমেলার; বইমেলা ডট কমের সার্ভিস নিয়ে দেশ থেকে প্রচুর বই আনবে তারা। দেশে ফেলে আসা আমার পুস্তক-সম্ভার নেহাত ছোটখাট না; সাম্প্রতিকতম উল্লেখযোগ্য প্রকাশনাও যোগ হয়েছে তাতে (পাঠক হিসেবে মাকে কুলীন বলা চলে Smile )। নিরবচ্ছিন্ন পাঠের সময় বা মানসিক অবস্থাও হারিয়েছি বহুদিন। তাই ওদের সঙ্গে এক চালানে কিছু আনিয়ে নেব, এমনটা ভাবিনি। তবু একটা বই না আনিয়ে পারিনি। না, পড়ার জন্য না, দেখার জন্য। শুধু হাতে নিয়ে দেখব বলেই যত আকুলতা। যেমনই হোক না কেন, ছাপা-বাঁধাই হওয়া আস্ত একখানা বইতে নিজের একটা লেখা ঠাঁই পেয়েছে; এ দৃশ্য দেখার সৌভাগ্য জীবনে আর নাও হতে পারে।

আজ দুপুরে এল সেই বই। অপরবাস্তব। সামহোয়্যারইন ব্লগে ২০০৮ সালে প্রকাশিত গল্পগুলোর একটা নির্বাচিত সংকলন। এর ৩৫ থেকে ৩৮ এই চারটে পৃষ্ঠার মালিক আমি! আমার এই গল্পটা!

ঢাকা- কলকাতা- উপন্যাস- সিরিয়াল: মেলবন্ধন, আগ্রাসন, বাণিজ্যমনস্কতা, অবনমন

অলৌকিক হাসানের ব্লগস্পট ঘুরে সাম্প্রতিক একটি লেখা পড়লাম। কলকাতার ঔপন্যাসিকদের লেখা নিয়ে বাংলাদেশে টিভি সিরিয়াল তৈরির প্রবণতার প্রতিবাদ করেছেন তিনি। তাঁর আপত্তির মূল জায়গাটা হলো সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের নামে বাণিজ্যের আগ্রাসন। পাশাপাশি স্ক্রিপ্টে ভাষারীতির বাংলাদেশীকরণের সফল-অসফল চেষ্টার উদাহরণও এসেছে। প্রাসঙ্গিক ভাবনা থেকে কলকাতা-ঢাকার কমন

সাম্প্রতিক মন্তব্য