কিছু না

বইটা তাহলে আসছে!

autismbook_front.png

রাত আড়াইটা। টুকটাক লেখার চেষ্টা করছি। একটা মেসেজ এলো। নিশ্চয়ই দেশ থেকে। কোন দুঃসংবাদ না তো? উৎকণ্ঠা নিয়ে খুলে দেখি খবর খারাপ না, বরং ভালো। একটা বইয়ের জন্য কাজ করেছিলাম, বইটা ছাপা হয়ে গেছে। প্রকাশক তাম্রলিপির রনিভাই জানিয়েছেন, ফেব্রুয়ারির ৭ তারিখে বইমেলায় আসবে শিশুর অটিজমঃ তথ্য ও ব্যবহারিক সহায়তা

বইটা ছাপা হয়ে গেছে! কেমন হয়েছে দেখতে? কে জানে! প্রচ্ছদে অপনার আঁকা ছবিটা কেমন দেখাচ্ছে? ভেতরের ছবিগুলো কেমন এসেছে? জাফর স্যারের লেখা মুখবন্ধ? আট ফর্মার বই হবার কথা... কেমন হয়েছে? কবে হাতে পাবো!.......

হারিয়ে গ্যাছে খুঁজে পাবোনা...

আমার মা ভুলোমনা গোছের মানুষ। একদঙ্গল অপদার্থের সংসারে সারাদিন শতকোটি ঝামেলা একা সামলে চাকরিও একটা করেন। বিশাল পরিবারের মুরুব্বী হিসেবে সবার খোঁজখবরও তাকে রাখতে হয়। বয়সের ভারে নুয়ে পড়ার বহু আগেই শরীরে নানান উপসর্গ বাঁধিয়ে বসেছেন। তাই মায়ের ভুলোমনা স্বভাবকে আমরা বিশেষ আমল দিইনা। বরং এর সুযোগ নিই পুরোদমে। ছাত্রজীবনে এক পিকনিকের চাঁদা তিনবার চেয়ে তিনবারই পেয়ে গেছি, এমন নজিরও আছে। সেটা জানান দেয়ার পর আবার অপ্রস্তুত মুখে বলেও ফেলতেন, যাহ্ কী বলিস, তুই মজা করছিস না তো আমার সাথে?

দুধওয়ালার টাকাটা কোথায় যেন রেখেছেন, ভুলে যান। পেপারের বিল হারিয়ে বাবার মেজাজের ভয়ে চুপি চুপি হকার ছোকরাকে বাড়তি টাকা ধরিয়ে দিতে গিয়ে শোনেন সেটা ক'দিন আগে তিনি নিজেই চুকিয়েছেন। ওষুধ কিনতে হবে, প্রেসক্রিপশন হারিয়েছেন; তালা খুলতে হবে, চাবিটা এই মাত্র কোথায় রাখলেন ভুলে গেছেন; রান্নাঘরের তাক থেকে পাঁচফোড়নের কৌটোটা গায়েব হয়ে গেছে; দু'দিন হয়ে গেলো মোবাইল ফোনটা পাচ্ছেননা; চিরুনিটা জায়গামতো নেই, ব্যাংকের চেকবইটা উধাও-- এসব মায়ের জন্য অতি সাধারণ ঘটনা। দিনের মধ্যে অনেকবার তাকে দেখা যায় কীসব বিড়বিড় করছেন। কিছু বলছো মা?

গান-গল্পের চরিত্ররা - ৩

কথা ও সুরে কিছুটা নচিকেতা-ঘেঁষা শিলাজিত কিন্তু অঞ্জন বা নচিকেতার মতো জনপ্রিয় নন; যদিও পাহাড়ের পটভূমিতে সাঁওতালী সুর ব্যবহার করে বেশ কিছু স্বতন্ত্র ধারার গানও গেয়েছেন তিনি। কিছু গানে আবার চেনাজানা নাগরিক জীবনের গল্প বলেছেন; নামধারী চরিত্ররাও আছে তাতে। পলিটিক্যাল সায়েন্সে অনার্স নিয়ে বিল ক্লিনটন, অথবা ফিলোসফি পড়ে হোমার, কিংবা ইংরেজি পড়ে শেক্সপীয়রের চেয়ে বড় ইংরেজ হবার সম্ভাবনা না থাকায় কলেজে উপস্থিতির কারণ হিসেবে সুদেষ্ঞাকেই দেখাচ্ছেন শিলাজিত।
আমি সুদেষ্ঞাতেই অনার্স
ওটাই আমার মেইন কোর্স
ওটাই আমার বেঁচে থাকার আল্টিমেট সোর্স।

শেলি-কিটস-চসার-মার্কস-লেনিন-- সবাই এসেছেন এই গানে সুদেষ্ঞার কাছে পরাজিত হতে। তার পরপরই পাঠ্যবিষয় হিসেবে সুদেষ্ঞার যৌক্তিকতা বোঝাতে গল্পের চরিত্ররাও হাজির।
ইকনমিক্সে অনার্স নিয়ে বুবুন বেচুবাবু
ফিলসফির মহুয়াদি টাইপ করেই কাবু
এরম আছে আমার কাছে হাজার উদাহরণ
তার চেয়ে দাদা অনেক সরল আমার সমীকরণ।

"বেতাল" গানটিতে এইসব বন্ধুদের পাশাপাশি সুমন-নচির কথাও আছে।

গান-গল্পের চরিত্ররা - ২

নব্বইয়ের দশকে সুমন চট্টোপাধ্যায়ের ধারায় আধুনিক বাংলা গানের জগতে নতুন একঝাঁক শিল্পীর আগমন ঘটে; যাঁরা একইসঙ্গে গীতিকবি, সুরকার, গায়ক ও বাদক। কাছাকাছি সময়ে আত্মপ্রকাশ করেন নচিকেতা চক্রবর্তী এবং অঞ্জন দত্ত; পরবর্তীতে আসা (কলকাতার) শিল্পীদের মধ্যে শিলাজিত, পিলু, মৌসুমী ভৌমিক, লোপামুদ্রা প্রমুখের নাম উল্লেখযোগ্য। "জীবনমুখী" হিসেবে পরিচিতি পাওয়া এসব গানের কথায় সমসাময়িক বাস্তবতার গল্পরা উঠে আসতে থাকে; স্যাটায়ার, ক্ষোভ, দ্রোহ, হতাশা, ব্যর্থতা, প্রেম, স্মৃতিকাতরতা-- সবকিছুর প্রকাশেই নামধারী চরিত্রদের রাজত্ব শুরু হয়।

নচিকেতার প্রথম অ্যালবাম "এই বেশ ভাল আছি"তে কলকাতার তিনশ বছরপূর্তি নিয়ে একটি গান আছে; যাতে শহরের জ্ঞানীগুণীবিদগ্ধজন হিসেবে সত্যজিত-মৃণাল-ঋত্বিক-সুকান্তের নাম এসেছে। এর বাইরে একমাত্র নামবাহী চরিত্র হিসেবে আসে নীলাঞ্জনা; অ্যালবামের সবেধন নীলমণি রোম্যান্টিক গানটিতে।
"লাল ফিতে সাদা মোজা স্কুল ইউনিফর্ম"-এর মেয়েটির জন্য রকবাজ যুবকের আকুলতা--
হাজার কবিতা বেকার সবই তা
তার কথা কেউ জানে না
সে প্রথম প্রেম আমার নীলাঞ্জনা...

শ্রোতামহলে নচিকেতা বিপুলভাবে সমাদৃত হন; জনপ্রিয়তা পায়

গান-গল্পের চরিত্ররা - ১

[লেখাটির জন্য সামহোয়্যারইন ব্লগের সহ-ব্লগারদের কাছে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছি।]

আমরা গান শুনতে ভালবাসি, ভালবাসি গল্প শুনতেও। শিশুবয়সে "এক যে ছিল"র ভূমিকা দিয়ে গল্প শোনার শুরু; অভিভাবকদের সচেতন খবরদারিতে "বড়দের গল্প"রা তখন অস্পৃশ্য। অন্যদিকে গানের বেলায় চাঁদফুলপাখি-খোকাখুকু নিয়ে ছড়াগানের পাশাপাশি আমি-তুমি-তুমি-আমি'র পারমুটেশন কম্বিনেশন শুনতে কিন্তু মানা নেই কোনও!

সাম্প্রতিক মন্তব্য