গল্প

একদিন মিহি

medium_Pic.jpg

মিহি আজ খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠেছে। তার স্কুল মর্নিং শিফটে, প্রতিদিনই তাকে ডাকাডাকি করে টেনেহিঁচড়ে তুলতে হয়, কিন্তু আজকের ব্যাপারটা আলাদা। আজ তার নাচের স্কুলে একটা অনুষ্ঠান আছে, সকাল সকাল সেখানে যেতে হবে। অনুষ্ঠান হলে সাজগোজ করে যেতে হয়, সাজতে খুবই ভালোবাসে মিহি। টিচাররা নোটিসে লিখে দেয় কোন শাড়িটা কেমন করে পরতে হবে, কুঁচি দিয়ে নাকি একপেঁচি করে; সঙ্গে কেমন সাজ, কোন গহনা, চুলে খোঁপা হবে নাকি বেণী এরকম সব কিছু। মায়ের ড্রেসিং টেবিলের সামনে টুলে বসে মিহি খাতা খোলে। "অতিথির আগমনের পূর্বেই উপস্থিত হতে হবে। হাজিরা সকাল সাড়ে আটটা, একাডেমির পূর্ব গেইট। বিনীত অরূপ দত্ত, প্রধান প্রশিক্ষক, নৃত্য শাখা"। অতিথি এলে অনুষ্ঠানের আগে অরূপ স্যার মিতা টিচার সবাই খুব রেগে রেগে কথা বলেন ওদের সঙ্গে। কার খোঁপায় ফুল নেই, কার লিপস্টিকের রং মেলেনি এসব নিয়ে মায়েদের খুব বকাবকি করেন। নাচ শেষ হলে কে কোথায় ভুল করেছে সেটা নিয়ে কথা বলেন। তখন মিহির খুব অবাক

অপরবাস্তবের দিন

ওপরতলায় নতুন প্রতিবেশী এসেছে। অল্পবয়সী হাসিখুশী সজ্জন দম্পতি; বাংলা ব্লগজগতের সুপরিচিত নাম। মৌসুমটা বইমেলার; বইমেলা ডট কমের সার্ভিস নিয়ে দেশ থেকে প্রচুর বই আনবে তারা। দেশে ফেলে আসা আমার পুস্তক-সম্ভার নেহাত ছোটখাট না; সাম্প্রতিকতম উল্লেখযোগ্য প্রকাশনাও যোগ হয়েছে তাতে (পাঠক হিসেবে মাকে কুলীন বলা চলে Smile )। নিরবচ্ছিন্ন পাঠের সময় বা মানসিক অবস্থাও হারিয়েছি বহুদিন। তাই ওদের সঙ্গে এক চালানে কিছু আনিয়ে নেব, এমনটা ভাবিনি। তবু একটা বই না আনিয়ে পারিনি। না, পড়ার জন্য না, দেখার জন্য। শুধু হাতে নিয়ে দেখব বলেই যত আকুলতা। যেমনই হোক না কেন, ছাপা-বাঁধাই হওয়া আস্ত একখানা বইতে নিজের একটা লেখা ঠাঁই পেয়েছে; এ দৃশ্য দেখার সৌভাগ্য জীবনে আর নাও হতে পারে।

আজ দুপুরে এল সেই বই। অপরবাস্তব। সামহোয়্যারইন ব্লগে ২০০৮ সালে প্রকাশিত গল্পগুলোর একটা নির্বাচিত সংকলন। এর ৩৫ থেকে ৩৮ এই চারটে পৃষ্ঠার মালিক আমি! আমার এই গল্পটা!

এইসিমেট্রিক

১.
আজ ভোরে ঘুম ভাঙল ঠিকা বুয়ার সঙ্গে মায়ের বাহাসে। প্রতিদিনই তার দেরী হয়, একই ব্যাখ্যা প্রতিদিনই, তবু মা সেটা জানতে চায়। দীর্ঘদিন স্কুলের হেডমিস্ট্রেস থাকার অর্জন হল বেশকিছু বদগুণ। যার মধ্যে অন্যতম এই জেরা করার স্বভাব। মাথার নীচ থেকে বালিশটা টেনে মুখের উপর ফেলি। আওয়াজ একটু কমল। আসলে কি মায়ের অর্জন শুধু ঐটুকুই? নাহ্, ভাল কিছুও আছে। এই যে আমি, একটু পরে অফিসে যাব, তার পারিপাট্যের প্রস্তুতি মা নিজ দায়িত্বে করে রাখছেন।

সাম্প্রতিক মন্তব্য