একদিন সবকিছু গল্প হয়ে যায় ০১

মা অসুস্থ; বাবার জরুরী তলব; হঠাৎ করে দেশে যেতে হলো। দুপুরে প্লেনের টিকেট করে মাঝরাতে রওনা। কী নেব, কী গোছাব কিছুই মাথায় আসছিলো না। সাংসারিক টুকিটাকির রাজ্যপাট চোকানোর ঝামেলা অনেক। চেনাজানাদের কাউকে বলা হয়নি। বলব কী, নিজেই জানতামনা যাওয়া হবে। কেমন যেন ঘোরের মধ্যে সময় পেরুলো। টুলামারিন এয়ারপোর্টে বদরাগী ব্লন্ড ভদ্রমহিলা লিকুইড-জেলের কৌটো-টিউব ফেলতে ফেলতে বাচ্চার জুসপ্যাক, টুথপেস্ট পর্যন্ত ছিনিয়ে নিলেন। জুতো খুলিয়ে হাঁটালেন, শালটা ধরে চালঝাড়া কায়দায় ঝাড়লেন। কিছু করার নেই। ভাইবেরাদারদের কর্মফল; খানিকটা বর্তাবেই।

দশঘন্টার প্রথম যাত্রা শেষে ব্যাংককে ঘন্টা ছয়েকের ট্রানজিটটাও কীভাবে যেন চলে গেলো। পরের প্লেনে পাশের আসনের ভদ্রলোক এলেন সবার পরে। চেনা চেনা চেহারা। আশপাশে প্রায় সবই দেশীমুখ; তার দিকে সাগ্রহে তাকিয়ে আছেন সবাই। এগিয়ে এসে কুশল বিনিময় করছেন কয়েকজন। আমি মনে করার চেষ্টা করছি কে হতে পারেন ইনি। নিশ্চিতভাবে সেলিব্রিটি গোছের কেউ। নেতা নাকি অভিনেতা?

ঢাকা- কলকাতা- উপন্যাস- সিরিয়াল: মেলবন্ধন, আগ্রাসন, বাণিজ্যমনস্কতা, অবনমন

অলৌকিক হাসানের ব্লগস্পট ঘুরে সাম্প্রতিক একটি লেখা পড়লাম। কলকাতার ঔপন্যাসিকদের লেখা নিয়ে বাংলাদেশে টিভি সিরিয়াল তৈরির প্রবণতার প্রতিবাদ করেছেন তিনি। তাঁর আপত্তির মূল জায়গাটা হলো সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের নামে বাণিজ্যের আগ্রাসন। পাশাপাশি স্ক্রিপ্টে ভাষারীতির বাংলাদেশীকরণের সফল-অসফল চেষ্টার উদাহরণও এসেছে। প্রাসঙ্গিক ভাবনা থেকে কলকাতা-ঢাকার কমন

অপনা, আমি, আর ঈশ্বরী পাটনী

০১.
ছ'বছর আগে এমনি সময়ে হাসপাতালের বেডে শুয়ে আমি। আমার পাশে উলের টুপিতে ঢাকা তুলোমোড়া একরত্তি অপনা। ঘন্টাদুই আগে পৃথিবীর আলোবাতাসে প্রথম এসেছে। চোখ পিটপিট করে যন্ত্রণাক্লিষ্ট আমাকে দেখছে। মা এসে পরিপাটি করে দিয়ে মিষ্টি বিলাতে যায়, মামা-মামী স্যুপ খাইয়ে দিয়ে যায়। ওর বাবা ক্যামেরাবন্দী করে ওকে ঘিরে সবাইকে। সন্ধ্যে থেকে আত্মীয়-বন্ধু-সহকর্মীদের ঢল; ফুলে ফুলে ছেয়ে যায় ছোট্ট কেবিন। পরদিন ঘরে ফিরি। আমার তখন বিশ্বজয়ের আনন্দ। জীবনে আর বুঝি কোন অপূর্ণতা রইলনা... ... ...

বড়দিনে পড়ে মনে

আমার স্কুলজীবন কেটেছে মিশনারী স্কুলে। পাদ্রী-নান আর মূলত খ্রীস্টান সম্প্রদায়ের শিক্ষকদের ক্লাস নেয়া, তাঁদের সুশৃঙ্খল নিয়মতান্ত্রিকতা। পাহাড়ের ওপর নির্জনতায় ছোট্ট গীর্জার ধারে প্রাইমারী স্কুল। কর্ণফুলীর ভাটিতে নোনাগন্ধী পুরনো এলাকার হাইস্কুল। চারপাশের পরিবেশে অঞ্জন দত্তের গানের রিপন স্ট্রিটের নেটিভ খ্রীস্টান-পাড়া। নভেম্বর-ডিসেম্বরে বছরশেষের পরীক্ষা বা ছুটির দিনে বৃ

সুপ্ত অক্ষমতা: শিশু ও আমরা - ৫

আগের পর্বের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী স্পিচ থেরাপি নিয়ে লিখতে গিয়ে মনে হল অটিস্টিক শিশুদের বৈশিষ্ট্য ও চিকিৎসা নিয়ে আরও আলোচনার অবকাশ রয়ে গেছে। সেজন্যে এই পর্ব।

চার থেকে ছয় বছর বয়সী অটিস্টিক শিশুদের আরো কিছু বৈশিষ্ট্য

স্বাভাবিক বা মূলধারার শিশুরা সাধারণত চার বছর বয়সের মধ্যেই অন্যদের-- বিশেষ করে সমবয়সীদের-- চিন্তাধারা, কথাবার্তা, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এসব সম্পর্কে ধারণা করতে শেখে। স্কুলে বা ঘরোয়া খেলার আসরে অন্যকে দেখে সে বুঝে নেয়ার চেষ্টা করে একটা বিশেষ খেলায় অংশগ্রহণের জন্য তার ঠিক কী করতে হবে। সে অনুযায়ী দৌড়াদৌড়ি, লাফঝাঁপ, হৈহল্লায় সে নিজেকে নিয়োজিত করে ফেলে। এই প্রক্রিয়াটি এত স্বতঃস্ফূর্তভাবে ঘটে যে কীভাবে ঘটল তা আমাদের নজরে আসেনা। কিন্তু অটিস্টিক শিশুরা এ বয়স থেকে নিজের ভেতর গুটিয়ে যায়। অন্যরা কি করছে- বা ভাবছে এ সংক্রান্ত চিন্তা করার মতো অবস্থা তাদের থাকেনা।

আমাদের দেশে একসময় শিশুরা পাঁচ বা ছ'বছর বয়সের আগে স্কুলে যেতনা। কিন্তু এখন তিন-চারের মধ্যেই প্লে-গ্রুপ বা কিন্ডারগার্টেনে যাওয়া খুব সাধারণ ঘটনা। অটিজম সম্পর্কে বাবা-মায়ের সম্যক জ্ঞানে

This site has Unicode encoded Bangla texts. For best viewing, use Falgunee or AponaLohit font. Download any of these fonts and copy to your Windows\Fonts directory. You might need to set the font in the Preference or Options box of the browser software.

সাম্প্রতিক মন্তব্য