গান-গল্পের চরিত্ররা - ৩

গান-গল্পের চরিত্ররা-১
গান-গল্পের চরিত্ররা-২

কথা ও সুরে কিছুটা নচিকেতা-ঘেঁষা শিলাজিত কিন্তু অঞ্জন বা নচিকেতার মতো জনপ্রিয় নন; যদিও পাহাড়ের পটভূমিতে সাঁওতালী সুর ব্যবহার করে বেশ কিছু স্বতন্ত্র ধারার গানও গেয়েছেন তিনি। কিছু গানে আবার চেনাজানা নাগরিক জীবনের গল্প বলেছেন; নামধারী চরিত্ররাও আছে তাতে। পলিটিক্যাল সায়েন্সে অনার্স নিয়ে বিল ক্লিনটন, অথবা ফিলোসফি পড়ে হোমার, কিংবা ইংরেজি পড়ে শেক্সপীয়রের চেয়ে বড় ইংরেজ হবার সম্ভাবনা না থাকায় কলেজে উপস্থিতির কারণ হিসেবে সুদেষ্ঞাকেই দেখাচ্ছেন শিলাজিত।
আমি সুদেষ্ঞাতেই অনার্স
ওটাই আমার মেইন কোর্স
ওটাই আমার বেঁচে থাকার আল্টিমেট সোর্স।

শেলি-কিটস-চসার-মার্কস-লেনিন-- সবাই এসেছেন এই গানে সুদেষ্ঞার কাছে পরাজিত হতে। তার পরপরই পাঠ্যবিষয় হিসেবে সুদেষ্ঞার যৌক্তিকতা বোঝাতে গল্পের চরিত্ররাও হাজির।
ইকনমিক্সে অনার্স নিয়ে বুবুন বেচুবাবু
ফিলসফির মহুয়াদি টাইপ করেই কাবু
এরম আছে আমার কাছে হাজার উদাহরণ

গান-গল্পের চরিত্ররা - ২

গান-গল্পের চরিত্ররা-১

নব্বইয়ের দশকে সুমন চট্টোপাধ্যায়ের ধারায় আধুনিক বাংলা গানের জগতে নতুন একঝাঁক শিল্পীর আগমন ঘটে; যাঁরা একইসঙ্গে গীতিকবি, সুরকার, গায়ক ও বাদক। কাছাকাছি সময়ে আত্মপ্রকাশ করেন নচিকেতা চক্রবর্তী এবং অঞ্জন দত্ত; পরবর্তীতে আসা (কলকাতার) শিল্পীদের মধ্যে শিলাজিত, পিলু, মৌসুমী ভৌমিক, লোপামুদ্রা প্রমুখের নাম উল্লেখযোগ্য। "জীবনমুখী" হিসেবে পরিচিতি পাওয়া এসব গানের কথায় সমসাময়িক বাস্তবতার গল্পরা উঠে আসতে থাকে; স্যাটায়ার, ক্ষোভ, দ্রোহ, হতাশা, ব্যর্থতা, প্রেম, স্মৃতিকাতরতা-- সবকিছুর প্রকাশেই নামধারী চরিত্রদের রাজত্ব শুরু হয়।

নচিকেতার প্রথম অ্যালবাম "এই বেশ ভাল আছি"তে কলকাতার তিনশ বছরপূর্তি নিয়ে একটি গান আছে; যাতে শহরের জ্ঞানীগুণীবিদগ্ধজন হিসেবে সত্যজিত-মৃণাল-ঋত্বিক-সুকান্তের নাম এসেছে। এর বাইরে একমাত্র নামবাহী চরিত্র হিসেবে আসে নীলাঞ্জনা; অ্যালবামের সবেধন নীলমণি রোম্যান্টিক গানটিতে।
"লাল ফিতে সাদা মোজা স্কুল ইউনিফর্ম"-এর মেয়েটির জন্য রকবাজ যুবকের আকুলতা--
হাজার কবিতা বেকার সবই তা
তার কথা কেউ জানে না
সে প্রথম

গান-গল্পের চরিত্ররা - ১

আমরা গান শুনতে ভালবাসি, ভালবাসি গল্প শুনতেও। শিশুবয়সে "এক যে ছিল"র ভূমিকা দিয়ে গল্প শোনার শুরু; অভিভাবকদের সচেতন খবরদারিতে "বড়দের গল্প"রা তখন অস্পৃশ্য। অন্যদিকে গানের বেলায় চাঁদফুলপাখি-খোকাখুকু নিয়ে ছড়াগানের পাশাপাশি আমি-তুমি-তুমি-আমি'র পারমুটেশন কম্বিনেশন শুনতে কিন্তু মানা নেই কোনও!

বিটিভির ছায়াছন্দ: কমন পড়ে?

[এই লেখাটা আমার খুব প্রিয় ব্লগার-লেখক লুৎফুল আরেফীনের লেখা থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছে।]

গোড়াতে একটু আজাইরা বকবক করি। শোবিজের লোকজন, বিশেষ করে আমাদের দেশের চলচ্চিত্র তারকাদের ব্যাপারে আমার আগ্রহ ব্যাপক। এর কারণটা বলি। ছোটবেলায় একবার শ্রীমঙ্গলের চা-বাগানে বেড়াতে গিয়ে শুটিং দেখেছিলাম এক বিখ্যাত গানের। "চাকবুম চাকবুম চাঁদনী রাতে কিছু বলবো তোমায়"। আবেহায়াত সিনেমায় অঞ্জু আর ওয়াসিমের নৃত্য। এই দৃশ্যটা মাথায় গেঁথে আছে। ("বেদের মেয়ে জোসনা" খ্যাত অঞ্জু ঘোষ এক বিচিত্র সম্পর্কসূত্রে আমার আত্মীয়ও হন; দুনিয়াটা বড় আজব জায়গা)। তারপর বড়বেলায় একবার কক্সবাজার গিয়ে শাবনূরের সঙ্গে কথা হয়েছিল। বলা বাহুল্য, ঐটা তার প্রথম ছবি, খুবই করুণ দশার কস্টিউম আর সস্তা সাজগোজের রোগা শ্যামলা মেয়েটা নিজ থেকেই আশেপাশের সবার সঙ্গে যেচে পড়ে কথা বলছিল, "আপু প্লিজ আমার এই ছবিটা দেখবেন, "চাঁদনী রাতে", এইতো এই বছরেই রিলিজ হয়ে যাবে...

সুপ্ত অক্ষমতা: শিশু ও আমরা - ৬

অটিস্টিক শিশুদের মধ্যে যাদের ইনটেলেকচুয়াল ডিজেবিলিটি নেই, অর্থাৎ অ্যাসপারগার সিনড্রোমে ভুগছে, এমন শিশুদের ১০-২০% নিবিড় যত্ন ও পরিচর্যায় চার থেকে ছয় বছর বয়সের মধ্যে তাদের সীমাবদ্ধতাগুলো একটু একটু করে কমিয়ে আনতে পারে, এবং কিছু অসুবিধা সত্ত্বেও একসময় সাধারণ স্কুলে স্বাভাবিক শিশুদের সাথে পড়ালেখা করতে পারে। আরো ১০-২০% শিশু স্বাভাবিক শিশুদের সাথে পড়তে না পারলেও বাসায় থেকে বা বিশেষায়িত স্কুলে নিবিড় যত্নসহ পড়ার সুযোগ পেলে, ভাষা সহ বিভিন্ন ধরণের প্রশিক্ষণ নিয়ে সমাজে মোটামুটি স্বনির্ভর একটা স্থান করে নিতে পারে। এসব ক্ষেত্রে নিবিড় পরিচর্যার অন্যতম ব্যবহারিক উপায় হলো স্পিচ থেরাপি।

This site has Unicode encoded Bangla texts. For best viewing, use Falgunee or AponaLohit font. Download any of these fonts and copy to your Windows\Fonts directory. You might need to set the font in the Preference or Options box of the browser software.

সাম্প্রতিক মন্তব্য