ক্লাস টু-র মার্জিয়া

ক্লাস টু-তে পড়ার সময় অনেকদিন পর্যন্ত আমার পাশের ডেস্কে বসতো মার্জিয়া। ছোট বাচ্চাদের ক্লাসে যেমন হয়, আলাদা আলাদা ডেস্ক-টুলে বসে সবাই, বেঞ্চ ভাগাভাগির আনন্দটা নেই। তবু ওর সঙ্গে আমার অন্যরকম বন্ধুত্ব হয়ে গেলো। এর কারণ দু'টো। প্রথমতঃ খাতাটা একটু কোণাকুণি করে না ধরলে ঠিকমতো লিখতে পারতাম না, তাই বসতামও সেভাবে; বাঁ দিকে বসা মার্জিয়ার কর্মকাণ্ডের খুব কমই আমার নজর এড়াতো। দ্বিতীয়তঃ ভোরের অ্যাসেম্বলি শুরুর আগে,টিফিন পিরিয়ডে, কিংবা ছুটির পর ও আমাকে অনেক কিছু শেখাতো। কোন্ আঙ্গুলে আড়ি আর কোন্ আঙ্গুলে ভাব হয়, জন্মের আড়ি দিলে আর ভাব করা যায় কিনা- শিশুকালের এমন সব গুরুত্বপূর্ণ রীতিরেওয়াজের হাতেখড়ি আমার ওর কাছেই। শৈশবকালীন রিচুয়াল বিষয়ে বান্ধবীর অজ্ঞতায় সে খুবই বিরক্ত হতো, চট্টগ্রামের আঞ্চলিক প্রভাবযুক্ত উচ্চারণে "তুমি জানোনা যে..." বলে আবার খুশী মনে সেটার ব্যাখ্যা দিতো। হাসপাতাল থেকে আম্মু ওর জন্য ভাইয়াবাবু নিয়ে আসবে, ওর সাত বছরের জন্মদিনে ওদের বাসায় লাইটিং করা হবে- এই দু'টো গল্প বার বার করতো।

একদিন আমাদের ইংরেজি বানান আর শ্রুতিলিখনের ক্লাসটেস্ট হলো, পরীক্ষার পর টিচার ঠিক করলেন

শিশুর অটিজম ও অবিন্যস্ত ইন্দ্রিয়ানুভূতি

সন্তানের অটিজম আছে এমন অভিভাবকদের জন্য

আমাদের পাঁচটি ইন্দ্রিয় চোখ, কান, নাক, জিভ ও ত্বকের মাধ্যমে আমরা দৃশ্য, শব্দ, গন্ধ , স্বাদ ও স্পর্শের অনুভূতি পাই। একইসঙ্গে এক বা একাধিক ইন্দ্রিয়ের দ্বারা একাধিক অনুভূতি অর্জন আপনার জন্য অতি সাধারণ বিষয়। কিন্তু আপনার সন্তানের জন্য নয়। আপনার সন্তানের sensory perceptions অর্থাৎ ইন্দ্রিয়সমূহের অনুভূতি সুবিন্যস্ত নয়।

ঘরের মধ্যে ফ্যান চলছে, টিউব লাইট থেকে তীক্ষ্ণ শব্দ আসছে, টেলিভিশনে অনুষ্ঠান চলছে বা গান বাজছে, তার মধ্যে চা খেতে খেতে খবরের কাগজ পড়ছেন, একইসঙ্গে কারও সঙ্গে কথাবার্তা বলছেন- আপনার দৈনন্দিন জীবনের নিয়মিত ঘটনা। কিন্তু আপনার সন্তানের জন্য এতোরকম শব্দ একসঙ্গে শোনা,এতোরকম দৃশ্য দেখা, তার মধ্যে আবার অন্য কাজ চালিয়ে যাওয়া- এটা প্রচণ্ড যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে। তখন তার আচরণে বিরক্তি বা অস্বস্তির প্রকাশ ঘটবে। ঘরের বাইরে রাস্তাঘাটে বা পাবলিক প্লেইসেও একই ঘটনা ঘটতে পারে।

একটি দৃশ্য কল্পনা করুন। বাসায় কেউ এসেছে অথবা আপনার শিশুকে কোথাও নিয়ে গেছেন, এমন অবস্থায় পরিচিত কারো সঙ্গে দেখা হয়েছে। তিনি আপনার সন্তানকে কোলে

একদিন মিহি

medium_Pic.jpg

মিহি আজ খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠেছে। তার স্কুল মর্নিং শিফটে, প্রতিদিনই তাকে ডাকাডাকি করে টেনেহিঁচড়ে তুলতে হয়, কিন্তু আজকের ব্যাপারটা আলাদা। আজ তার নাচের স্কুলে একটা অনুষ্ঠান আছে, সকাল সকাল সেখানে যেতে হবে। অনুষ্ঠান হলে সাজগোজ করে যেতে হয়, সাজতে খুবই ভালোবাসে মিহি। টিচাররা নোটিসে লিখে দেয় কোন শাড়িটা কেমন করে পরতে হবে, কুঁচি দিয়ে নাকি একপেঁচি করে; সঙ্গে কেমন সাজ, কোন গহনা, চুলে খোঁপা হবে নাকি বেণী এরকম সব কিছু। মায়ের ড্রেসিং টেবিলের সামনে টুলে বসে মিহি খাতা খোলে। "অতিথির আগমনের পূর্বেই উপস্থিত হতে হবে। হাজিরা সকাল সাড়ে আটটা, একাডেমির পূর্ব গেইট। বিনীত অরূপ দত্ত, প্রধান প্রশিক্ষক, নৃত্য শাখা"। অতিথি এলে অনুষ্ঠানের আগে অরূপ স্যার মিতা টিচার সবাই খুব রেগে রেগে কথা বলেন ওদের সঙ্গে। কার খোঁপায় ফুল নেই, কার লিপস্টিকের রং মেলেনি এসব নিয়ে মায়েদের খুব বকাবকি করেন। নাচ শেষ হলে কে কোথায় ভুল করেছে সেটা নিয়ে কথা বলেন। তখন মিহির খুব অবাক

অটিজম সচেতনতা: প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ

যে কারণেই হোক না কেন, বাংলাদেশে আমাদের চারপাশের পরিবেশ মূলধারার স্বাভাবিক শিশুদের জন্যই খুব একটা বন্ধুসুলভ নয়। এ অবস্থায় সন্তানের অটিজম থাকলে বাবামায়েরা বাড়তি দুশ্চিন্তায় পড়েন। রাস্তাঘাটে, পাবলিক প্লেইসে, যানবাহনে অধিকাংশ অচেনা লোকজন অটিজম আছে এমন শিশু বা পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির অস্বাভাবিক আচরণের প্রতি বিন্দুমাত্র বিবেচনাবোধ দেখান না। সহৃদয়তা তো বহু দূরের কথা। অসহিষ্ণু মন্তব্য, উপহাস, বিরক্তি কোনকিছুই দেখাতে কার্পণ্য করেন না। শারীরিক আঘাতের ঘটনাও ঘটে। উন্নত দেশগুলোতে শিশুর সঙ্গে রাখা বিশেষ কার্ড দেখিয়ে অনেক জায়গায় আশেপাশের মানুষকে জানিয়ে দেয়া যায় যে এই শিশুটির অটিজম আছে, তার কাছ থেকে কিছু ব্যতিক্রমী আচরণে অন্যদের সহনশীলতা কাম্য। কিন্তু আমাদের মতো জনবহুল এবং সচেতনতার অভাবগ্রস্ত দেশে এই অবস্থা আসতে এখনও অনেক দেরী বলেই অনুমান করতে পারি। আমরা সাধারণ সুস্থ মানুষেরা তাদের দুর্বলতার বিষয়টিই উপলব্ধি করতে পারিনা। এটার নাম দেয়া হয়েছে হিডেন ডিজেবিলিটি; কারণ এখানে অক্ষমতাটা প্রকাশ্য নয়। আমাদের দেশীয় প্রেক্ষাপটে দুর্বল কাউকে সম্মান করার সংস্কৃতি এখনও গড়ে উঠেনি।

যখন পরিবারে একটি

হারিয়ে গ্যাছে খুঁজে পাবোনা...

আমার মা ভুলোমনা গোছের মানুষ। একদঙ্গল অপদার্থের সংসারে সারাদিন শতকোটি ঝামেলা একা সামলে চাকরিও একটা করেন। বিশাল পরিবারের মুরুব্বী হিসেবে সবার খোঁজখবরও তাকে রাখতে হয়। বয়সের ভারে নুয়ে পড়ার বহু আগেই শরীরে নানান উপসর্গ বাঁধিয়ে বসেছেন। তাই মায়ের ভুলোমনা স্বভাবকে আমরা বিশেষ আমল দিইনা। বরং এর সুযোগ নিই পুরোদমে। ছাত্রজীবনে এক পিকনিকের চাঁদা তিনবার চেয়ে তিনবারই পেয়ে গেছি, এমন নজিরও আছে। সেটা জানান দেয়ার পর আবার অপ্রস্তুত মুখে বলেও ফেলতেন, যাহ্ কী বলিস, তুই মজা করছিস না তো আমার সাথে?

দুধওয়ালার টাকাটা কোথায় যেন রেখেছেন, ভুলে যান। পেপারের বিল হারিয়ে বাবার মেজাজের ভয়ে চুপি চুপি হকার ছোকরাকে বাড়তি টাকা ধরিয়ে দিতে গিয়ে শোনেন সেটা ক'দিন আগে তিনি নিজেই চুকিয়েছেন। ওষুধ কিনতে হবে, প্রেসক্রিপশন হারিয়েছেন; তালা খুলতে হবে, চাবিটা এই মাত্র কোথায় রাখলেন ভুলে গেছেন; রান্নাঘরের তাক থেকে পাঁচফোড়নের কৌটোটা গায়েব হয়ে গেছে; দু'দিন হয়ে গেলো মোবাইল ফোনটা পাচ্ছেননা; চিরুনিটা জায়গামতো নেই, ব্যাংকের চেকবইটা উধাও-- এসব মায়ের জন্য অতি সাধারণ ঘটনা। দিনের মধ্যে অনেকবার তাকে দেখা যায় কীসব বিড়বিড় করছেন। কিছু বলছো মা?

This site has Unicode encoded Bangla texts. For best viewing, use Falgunee or AponaLohit font. Download any of these fonts and copy to your Windows\Fonts directory. You might need to set the font in the Preference or Options box of the browser software.

সাম্প্রতিক মন্তব্য