শিশুর অটিজম ও অবিন্যস্ত ইন্দ্রিয়ানুভূতি

শিশুর অটিজম ও অবিন্যস্ত ইন্দ্রিয়ানুভূতি

সন্তানের অটিজম আছে এমন অভিভাবকদের জন্য

আমাদের পাঁচটি ইন্দ্রিয় চোখ, কান, নাক, জিভ ও ত্বকের মাধ্যমে আমরা দৃশ্য, শব্দ, গন্ধ , স্বাদ ও স্পর্শের অনুভূতি পাই। একইসঙ্গে এক বা একাধিক ইন্দ্রিয়ের দ্বারা একাধিক অনুভূতি অর্জন আপনার জন্য অতি সাধারণ বিষয়। কিন্তু আপনার সন্তানের জন্য নয়। আপনার সন্তানের sensory perceptions অর্থাৎ ইন্দ্রিয়সমূহের অনুভূতি সুবিন্যস্ত নয়।

ঘরের মধ্যে ফ্যান চলছে, টিউব লাইট থেকে তীক্ষ্ণ শব্দ আসছে, টেলিভিশনে অনুষ্ঠান চলছে বা গান বাজছে, তার মধ্যে চা খেতে খেতে খবরের কাগজ পড়ছেন, একইসঙ্গে কারও সঙ্গে কথাবার্তা বলছেন- আপনার দৈনন্দিন জীবনের নিয়মিত ঘটনা। কিন্তু আপনার সন্তানের জন্য এতোরকম শব্দ একসঙ্গে শোনা,এতোরকম দৃশ্য দেখা, তার মধ্যে আবার অন্য কাজ চালিয়ে যাওয়া- এটা প্রচণ্ড যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে। তখন তার আচরণে বিরক্তি বা অস্বস্তির প্রকাশ ঘটবে। ঘরের বাইরে রাস্তাঘাটে বা পাবলিক প্লেইসেও একই ঘটনা ঘটতে পারে।

একটি দৃশ্য কল্পনা করুন। বাসায় কেউ এসেছে অথবা আপনার শিশুকে কোথাও নিয়ে গেছেন, এমন অবস্থায় পরিচিত কারো সঙ্গে দেখা হয়েছে। তিনি আপনার সন্তানকে কোলে তুলে নিয়েছেন বা আদর করছেন, আপনি সন্তানকে বলছেন, ‘সালাম দাও বাবা, বলো তো ইনি কে’। এক্ষেত্রে চারপাশের পরিবেশে যদি আগে থেকেই একাধিক উৎস থেকে শব্দ বা দৃশ্য তার চোখ বা কানের দখল নিয়ে থাকে, এর পর সেই মানুষটিকে চেনা, তার নাম বা পরিচিতিসূত্র মনে করা, মুখ খুলে কথা বলা আর এই তিনটি কাজ করার সময় মানুষটির চোখে চোখ রাখা- এই চারটি কাজ একসঙ্গে করার মতো চাপ তার স্নায়ু নিতে পারবেনা। তাই তখন তার অন্যদিকে তাকিয়ে থাকা অথবা মুখ লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করা,কথা জড়িয়ে ফেলা, অপ্রাসঙ্গিক কথা বলা, এমনকি চিৎকার করে বিরক্তি বা অস্বস্তি প্রকাশ করা- এমন সব আচরণে ঘাবড়ে যাবেন না অথবা তাকে অমনোযোগী ভাববেন না। মনে রাখুন তার সীমাবদ্ধতার কথা; বোঝার চেষ্টা করুন তার ইন্দ্রিয়গুলো খুব বেশী সংখ্যক অনুভূতি ধারণের ভারে ভারাক্রান্ত কিনা।

শুধু দৃশ্য বা শব্দই নয়; গন্ধের ব্যাপারেও আপনার শিশুর সংবেদনশীলতা আপনার তুলনায় অনেক বেশী হতে পারে। পারফিউমসহ যে কোন প্রসাধনীর গন্ধ, বাড়ীর দেয়ালের রং, আসবাবপত্রের বার্নিশ, গ্লু, ঘরের মেঝে ও গৃহস্থালী সামগ্রী পরিষ্কারের রাসায়নিক দ্রব্য, কড়া গন্ধ আছে এমন খাবার যেমন শুটকি, রান্নার বাগার বা ফোড়ন ইত্যাদির গন্ধ কোন কোন শিশুর জন্য তীব্র শারীরিক অস্বস্তির কারণ হতে পারে।

বিভিন্ন ধরণের খাবারের প্রতি আপনার শিশুর জিহ্বার সংবেদনশীলতা বিভিন্ন হতে পারে। নরম, আঠালো, পিচ্ছিল, শক্ত, কুড়মুড়ে কিংবা দানাদার খাবারের ক্ষেত্রে শিশুর সংবেদনশীলতা ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। কোন কোন শিশু আঠালো পিচ্ছিল খাবারে, আবার কোন কোন শিশু শক্ত খাবার চিবিয়ে খেতে প্রচণ্ড অস্বস্তি বোধ করতে পারে। এ ধরণের অস্বস্তিদায়ক খাবার না চিবিয়ে দ্রুত গিলতে গিয়ে বমি করে দিতে পারে। খাবারের তাপমাত্রার দিকেও খেয়াল রাখুন। ঠাণ্ডা খাবার যেমন আইসক্রিম অথবা গরম দুধ খাওয়ার সময় আপনার শিশুর তীব্র অস্বস্তিকর প্রতিক্রিয়া ঘটছে কিনা খেয়াল রাখুন। টক, ঝাল, নোনতা বা মিষ্টি- কোন স্বাদের প্রতি তার বিশেষ সংবেদনশীলতা আছে কিনা দেখুন। গমজাত বা দুগ্ধজাত খাবারে আপনার শিশুর হজমে সমস্যা হয় কিনা খেয়াল রাখুন। অটিজম আছে এমন শিশুদের অনেকেরই গম/আটা/ময়দাজাত ও দুধজাত খাবার ঠিকভাবে হজম করতে পারে না।

ত্বকের মাধ্যমে স্পর্শের অনুভূতিতে স্বাভাবিক মানুষের তুলনায় আপনার সন্তানের ক্ষেত্রে একটু ভিন্নতা থাকবে। সে যে জামা পরে আছে তার ঘাড়ের কাছে ট্যাগটার স্পর্শ তাকে অস্বস্তি দিতে পারে। পোশাকের কোন অংশ যেমন বোতাম, জিপার, হাতা বা কলারের শক্ত কাপড় (বক্রম), ইলাস্টিক, হুক ইত্যাদি শিশুকে অস্বস্তি দিচ্ছে কিনা খেয়াল রাখুন। জুতো ও মোজার বেলাতেও একই কথা প্রযোজ্য। এছাড়া চুল কাটা, চুলে শ্যাম্পু করা, দাঁত মাজা ও নখ কাটার সময় শিশুর স্পর্শজনিত অস্বস্তি হতে পারে।

অবশ্যই মনে রাখবেন, বিশেষ বিশেষ গন্ধ, স্বাদ, স্পর্শ এসবের প্রতি সংবেদনশীলতা স্বাভাবিক মানুষেরও কমবেশী আছে। কিন্তু শিশুর অটিজম থাকলে এই সংবেদনশীলতা অনেক গুণ বেশী তীব্র হবে। কারণ তার ইন্দ্রিয়ানুভূতি সুবিন্যস্ত নয়। সেক্ষেত্রে এই সংবেদনশীলতা সৃষ্টিকারী উপাদানটি তার জন্য অস্বস্তিকর থেকে শুরু করে তীব্র যন্ত্রণাদায়ক পর্যন্ত হতে পারে। যেটা আমাদের মতো স্বাভাবিক মানুষের পক্ষে কল্পনা করা কঠিন। শিশু তার মুখের ভাব, শরীরের ভঙ্গি, বিড়বিড় বা চিৎকার করে কান্নার মধ্য দিয়ে সেটা প্রকাশ করবে।

এখানে আরও দু'টো বিশেষ সেন্স বা অনুভূতির কথা বলা যেতে পারে। একটি হলো Vestibular sense যার কেন্দ্র হলো কানের একদম ভেতরের দিকে। এর মাধ্যমে চোখ ও মাথার অবস্থানের পরিবর্তনের কারণে শরীরের ভারসাম্য ও স্থিতিশীলতার পরিবর্তন বোঝা যায়। যেমন উল্টো করে ঝুলে থাকা অবস্থায় শরীরের ভারসাম্য বদলে যায়। এই পরিবর্তিত ভারসাম্যাবস্থা আপনার শিশুর ক্ষেত্রে তীব্র অস্বস্তিকর ও ভীতিকর হতে পারে। উঁচু চেয়ারে বা টুলে বসলে যদি সে পায়ের পাতা মাটিতে ঠেকাতে না পারে, তাহলে তার শারীরিক অস্বস্তি হতে পারে। প্রতিমুহূর্তে পতনের ভয় কাজ করতে পারে। তখন তার জন্য সম্ভব হলে নীচু চেয়ারটেবিলের ব্যবস্থা করতে হবে অথবা পা রাখার জন্য উপযোগী মাপের টুল দিতে হবে। সাইকেল চালানো, দোলনায় দোলা, সিঁড়ি বা মই বেয়ে ওপরে ওঠা- এসব কাজও তার জন্য ভীতিকর হতে পারে। তখন শরীরের ভারসাম্য বা স্থিতিশীলতা ব্যহত হওয়ায় আপনার শিশুর মাথা ব্যথা, বমির ভাব, কান বন্ধ বা কানে ঝিঁ ঝিঁ শব্দ শোনার অনুভূতি হতে পারে। চারপাশের দৃশ্যগুলোকে তার চোখে ঝাপসা দেখাতে পারে অথবা সবকিছু নড়ছে বা কাঁপছে বলে মনে হতে পারে। তাকে কোলে বসিয়ে নিয়ে (দোলনায়) অথবা দৃঢ়ভাবে ধরে রেখে (মই বাওয়া, সাইকেল চালানো) এধরণের কাজ একটু একটু করে অনুশীলন করাতে হবে।

আরেকটি হলো Proprioceptive sense. এই অনুভূতি শরীরের মাংসপেশী ও হাড়ের সংযোগগুলোর কাছ থেকে ফিডব্যাক নিয়ে মস্তিষ্ককে জানায় যে তার শরীরের অবস্থান কোথায় এবং কী কী শক্তি ও চাপ এর উপর ক্রিয়াশীল আছে। সে অনুযায়ী গ্রস মোটর ও ফাইন মোটর কার্যাবলী নিয়ন্ত্রিত হয়। আপনার সন্তানের হাঁটাচলায়, স্কিপিং রোপ দিয়ে লাফ দেয়া, ডিগবাজি খাওয়া, অথবা এক পায়ে লাফিয়ে চলায় জড়তা থাকতে পারে। আবার তার ফাইন মোটর কার্যাবলীতেও জড়তা থাকতে পারে। হাত ও আঙুলের ব্যবহারে বিভিন্ন কাজ যেমন পেন্সিল, কাঁচি, চামচ ইত্যাদি ধরা ও ব্যবহার করার ক্ষেত্রে তার সমস্যা থাকতে পারে। হাত রগড়ে ধোয়া, হাত থেকে পানি ঝাড়া ও মোছা, জামার বোতাম লাগানো ইত্যাদিতে তার সমস্যা সেই কাজে অমনোযোগিতার জন্য হয়না; শারীরিক কারণেই তা ঘটে।

এতোক্ষণে আপনি হয়তো চুল কাটানো, নখ কাটা, শ্যাম্পু করা অথবা দাঁত মাজার সময় আপনার সন্তানের চরম অস্বস্তিকর প্রতিক্রিয়ার কারণ বুঝতে পারছেন। এই অস্বস্তি (যদি থাকে) নিয়ন্ত্রণে আপনি যা করতে পারেন-
• প্রথমত ‘কাটা’ শব্দটি সে অপছন্দ করতে পারে। সে হয়তো অভিজ্ঞতায় দেখেছে কাটা মানেই হলো হাতপা কেটে যাওয়া যাতে ব্যথা পাওয়া যায়। তাই সেলুনে নিয়ে যাবার আগে তাকে চুল কাটার কথা না বলে চুল ছোট করা হবে- এভাবে বলুন। বেড়াতে যাবার জন্য চুল সুন্দর করা হবে, চুলটা চোখে পড়ছে অথবা গরম লাগছে তাই ছোট করে দিতে হবে ইত্যাদি। যিনি চুল কাটবেন তাকেও এই কথাটা জানিয়ে রাখবেন।
• চুল কাটানোর সময় উঁচু চেয়ারে বসে Vestibular ভারসাম্যহীতার কারণে অস্বস্তি হতে পারে, তাই তার পা রাখার জন্য একটা কাঠের টুলের ব্যবস্থা করুন।
• চেয়ারের বসার জায়গাটা তার শরীরের তুলনায় বেশ বড় হলে তার পিছনে-পাশে ও কোলে ছোট বালিশ দিয়ে দিন।
• তাকে আয়নার দিক থেকে উল্টোদিকে ফিরিয়ে বসান যাতে আয়নার মধ্য দিয়ে কাঁচি-ক্লিপার ইত্যাদি তার নজরে না আসে।
• চুল কাটানোর জন্য সেলুনের সবচেয়ে নিরিবিলি সময়টা বেছে নিন এবং গানবাজনার শব্দ বন্ধ করতে অনুরোধ করুন।
• শিশুর ক্লান্ত ও ক্ষুধার্ত অবস্থায় তাকে চুল কাটাতে নেবেন না।
• চুল কাটানোর সময়টাতে সে হাতে ধরে রেখেই খেলতে পারে এমন কোন খেলনা তার হাতে দিতে পারেন। তবে সেটা চ্যাপ্টা বোর্ডের আকারের (যেমন ছবিসহ বর্ণমালা) হলে ভালো হয়, তাহলে সেটা দেখার সময় সে কম নড়াচড়া করবে।
• শিশুর বাড়তি একটা জামা সঙ্গে নিয়ে যাবেন। চুল কাটানোর পর জামা বদলে দেবেন। আগের জামার ঘাড়ের কাছে চুলের কণাগুলো তাকে অস্বস্তি দেবে।
• চুল কাটানোর ব্যাপারে আপনার সন্তানের অতিরিক্ত ভীতি থাকলে কমদামী একটা পুতুল কিনে মাঝে মাঝে সেটার চুল ছোট করার খেলা খেলুন তার সঙ্গে।
• নখ কাটার ক্ষেত্রেও কাটার বদলে ছোট করা বলুন।
• গোসলের পরপর নখ কাটুন, তখন নখ নরম থাকবে।
• নখ কাটার সময় তার হাত বা পায়ের আঙুলের তালুর দিক শক্ত কোন তলের (টেবিল, বই, অথবা হাঁটু) কিনারার দিকে রাখুন।
• শিশুর নখ কাটার সময় আশেপাশে পরিবারের অন্য কাউকে নখ কাটতে বলুন। কার কয়টি আঙুল শেষ হয়েছে গুণতে পারেন।
• তার পছন্দের টিভি প্রোগ্রাম চলার সময় নখ কাটতে পারেন।
• ঝামেলাহীনভাবে নখ কাটার অন্য সব পন্থা ব্যর্থ হলে শিশুর ঘুমন্ত অবস্থায় নখ কাটুন।
• শ্যাম্পু করার সময় কানে ইয়ারপ্লাগ চোখে সাঁতারের গগলস পরিয়ে দিন।
• তাকে মুখোমুখি রেখে নয়, বরং পিছন ফিরিয়ে শ্যাম্পু ঢালুন এবং ফেনা তৈরী করুন।
• শিশু Vestibular ভারসাম্যহীতার কারণে অস্বস্তি বোধ করলে একহাতে তাকে ধরে রাখুন। সে যদি জামাকাপড় খুলতে না চায় তবে বুঝতে হবে কাপড়ের ওজন তাকে Proprioceptive দিক থেকে সাহায্য করছে। তার গায়ে একটা ভেজা তোয়ালে জড়িয়ে দিতে পারেন।
• রগড়ানোর সময় কমানোর জন্য অল্প পরিমাণে শ্যাম্পু নিন।
• মগে করে পানি নিয়ে মাথা ধোয়ালে কতো মগ পানি দিলে ধোয়া শেষ হবে তা শিশুকে আগেই জানিয়ে গুণতে বলুন। তার মনোযোগ তখন গণনার দিকে থাকবে।
• মগ থেকে পানি ঢালার সময় মাথার খুব কাছ থেকে ঢালুন যেন পানির ধারা শিশুর মাথায় ‘আঘাত’ না করে। গোলমুখের মগের চেয়ে সামনের দিকে ঢালার জন্য বাড়তি অংশ আছে এমন মগ ব্যবহার করলে পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে।
• পানির তাপমাত্রা শিশুর জন্য উপযোগী কিনা দেখুন। শ্যাম্পু সরাসরি তার মাথায় না ঢেলে আগে নিজের হাতে নিয়ে একটু ঘষে নিন। সরাসরি মাথায় ঢাললে শিশু মাথায় ঠাণ্ডা বোধ করতে পারে এবং এর সান্দ্রতা (ঘন, ভারী তরলতা) তার জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে।
• তাকে নিজের হাতে ফেনা তৈরী করতে আর ঘষতে উৎসাহ দিন।
• দাঁত মাজার জন্য বিভিন্ন আকারের টুথব্রাশ পর্যায়ক্রমে ব্যবহার করে দেখুন কোনটিতে তার অস্বস্তি সবচেয়ে কম হয়।
• তার মুখের ভেতরে টুথপেস্টের অনুভূতি অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে। পেস্টের বদলে জেল ব্যবহার করুন।
• সামনে থেকে নয়, বরং তার পিছনে দাঁড়িয়ে তাকে দাঁত মাজতে সহযোগিতা করুন।
• সামনে দুই পাটি দাঁতের বড় ছবি রেখে এখন কোনটা মাজা হচ্ছে তাকে বলুন, তখন সে সবগুলো দাঁত মাজা হচ্ছে কিনা সেদিকে মনোযোগী হতে পারে।
• দাঁত মাজার সময় মজার কোন ছড়া বলতে অথবা ছড়াগান গাইতে পারেন।
• দাঁত মাজা খুব বেশী অস্বস্তির কারণ হলে প্রথমবারে উপরের পাটি মেজে কুলি করিয়ে কয়েক মিনিট বিরতির পর আবার নীচের পাটি মাজতে দিন।

সেন্সরি বা ইন্দ্রিয়সংশ্লিষ্ট সমস্যা কমাতে বিভিন্ন স্পর্শানুভূতিসম্পন্ন বস্তু দিয়ে খেলার উপযোগিতা রয়েছে। যেমন বালি, ছোট নুড়ি, পুঁতি, মার্বেল, পোস্টার পেইন্ট (ত্বকের জন্য ক্ষতিকর নয় এমন), জেলজাতীয় পদার্থ, আঠা বা গ্লু ইত্যাদি। কনুই থেকে শুরু করে দুই হাতের তালু, হাঁটু থেকে শুরু করে পায়ের পাতা পর্যন্ত এসব বস্তুর সংস্পর্শে আসা চাই। তবে এসব নিয়ে খেলার সময় শিশুর নিরাপত্তার স্বার্থে অভিভাবকের নিবিড় পর্যবেক্ষণ জরুরী। গোসলের সময় শিশুকে পানি ও সাবানের ফেনা ঘাঁটাঘাঁটি করার সুযোগ দিন। গোসলের সময় স্ক্রাবার (যেমন ধুন্দুলের ছিবড়া) দিয়ে এবং গোসলের পরে তোয়ালে দিয়ে তার শরীর ভালো করে রগড়ে দিন। তার শরীরে ও হাতে পায়ে তেল বা লোশন মাখানোর সময় মালিশের মতো করে ঘষুন। স্ট্র দিয়ে তরল খাবার টেনে খেতে দিন। হুইসেল বা বাঁশি বাজাতে দিন, বেলুন ফোলাতে দিন। চুষে চুষে খেতে হয় এমন খাবার দিন। এক্ষেত্রে চকোলেট বা ক্যান্ডির বদলে চিনিবিহীন চুইংগাম দিলে ভালো হয়।

মন্তব্য

অনেক কিছু শিখলাম... Smile

ধন্যবাদ মাহমুদ। কখনও যদি মনে হয় কারও কাজে লাগবে, রেফার করার অনুরোধ রইলো।

আপু, সামুতে অনেকদিন তোমাকে দেখিনা। জানিনা কেমন আছো। সামুতে মন্তব্য দেওয়াটাও বন্ধ রেখেছ। সবসময় ভালো থাক এই দোয়া থাকল।
- সবুজ সাথী

আমি ভালো আছি সবুজ সাথী। আরও ভালো লাগছে তুমি খোঁজ নিতে এসেছো দেখে। ভালো থেকো সব সময়।

আমার এক ভাগিনা (বোনের ছেলে) অটিজমে আক্রান্ত । ওর বয়স প্রায় 7 বছর । তাই আপনার ব্লগে এসে মাঝে মাঝে পড়ে যাই । এ বিষয়ে লেখার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ ।

অনেক ধন্যবাদ মাসুদ। আমার মেয়ের প্রায় সমবয়সী আপনার ভাগিনা। আপনার বোন যদি বাংলাদেশে থাকেন, তাহলে ছেলেকে বিশেষায়িত কোন স্কুলে বা প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যান কিনা জানার আগ্রহ রইলো। সম্ভব হলে সেরকম কোন ঠিকানা জানিয়ে গেলে উপকৃত হতাম। ভালো থাকবেন।

একটা স্কুলে যাওয়ার ব্যাপারে স্কুলের প্রধান শিক্ষিকার সাথে কথা হচ্ছে । আগে আপুর বাসা ঢাকাতে ছিলো না বিধায় বাসায় টিউটর দিয়ে টেবিলে বসার অভ্যাস গড়ে তোলা হয়েছিলো । খুব তাড়াতাড়িই ওকে স্কুলে ভর্তি করানো হবে । ঢাকাতে একটা স্কুল আছে যেটা ছিলো শ্যামলীর আদাবরে কিন্তু গতবছর ঐটার স্হান পরিবর্তন করে মোহাম্মদপুরে নিয়ে এসেছেন । আমি স্কুলের নাম এবং ঠিকানা পেলেই এখানে তুলে দিবার আশা রাখলাম । আপনার মেয়ের সুস্হতা কামনা করি । আপনাকে ও ধন্যবাদ ।

ঢাকার মোহাম্মদপুরে অটিজম শিশুদের নিয়ে একটা স্কুল আছে, যেটার অবস্হান ছিলো শ্যামলীর আদাবরে । গতবছর ওরা স্হান পরিবর্তন করেছেন । স্কুলের নামটা এ মূর্হুতে মনে করতে পারছি না । যতো তাড়াতাড়ি পারি ঠিকানা টা দিয়ে যাবো । আপনাকে ও ধন্যবাদ ।

Dear Nushera apa,

Take my salam. Recently my son has diagonised with autism. We live in Sydney, Australia. We do not know the opportunities for autism treatment. Feeling helpless. I read your book. I want to discuss with you. My email address is ----@----. If you please provide your contact number, I will be grateful.

ভাই জামান

আমি আপনার অবস্থায় একদিন ছিলাম, কাজেই বুঝতে পারছি কী দুঃসহ সময় আপনি ও আপনার পুরো পরিবার অতিক্রম করছেন। আপনাকে কোন তথ্য দিয়ে সাহায্য করতে পারলে আমার খুব ভালো লাগবে। bdautism@gmail.com আমার ইমেইল, আপনার দেওয়া ঠিকানায় (এখানে প্রকাশ করলাম না) যোগাযোগ হবে। আপনি যে নিজের সন্তানের বিকাশজনিত সমস্যাটি লুকানোর চেষ্টা না করে স্বীকার করেছেন, সেই ইতিবাচক মানসিকতা আমাদের অনেকের থাকে না।
আপনাদের জন্য আমার সর্বোচ্চ শুভ কামনা রইলো।

apu, Thanks for ur mail. i will contact with you.

নতুন মন্তব্য করুন

এ তথ্য দেয়া আবশ্যক (অন্য কাউকে দেখানো হবে না)।
CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.
Image CAPTCHA
Enter the characters (without spaces) shown in the image.

সাম্প্রতিক মন্তব্য