সম্প্রতি আমার সাড়ে ছয় বছর বয়সী কন্যা অপনা হঠাৎ করেই দাবী করছে তার তিনটি পুত্রসন্তান আছে। এবং এদেরকে যথাযোগ্য মর্যাদায় আদরযত্ন করতে হবে।
বড়টির নাম ফ্রেডি, সে হলো সবুজরঙা কোলাব্যাং-পাপেট। গলার কাছে বাকযন্ত্রে চাপ পড়লে দিব্যি ঘ্যাঙর ঘ্যাঙ করে মিনিটখানেক। ফ্রেডি এসেছে অপনার সুরভিআন্টির সূত্রে।
মেজোটির নাম টেড বা টেডি। যেনতেন কেউ নয়; মেরুন টিশার্টে রীতিমতো ভার্জিনিয়া টেকের ছাত্র; ইশতিয়াক রউফের বন্ধু। ইশতিমামা অপনাকে দিয়ে ফেলেছে।
কনিষ্ঠটি সুরুজ মিয়া বা রেড সান। সূর্যের মতো দেখতে এক কার্টুন চরিত্র; কেমন যেন রাগী-রাগী অথচ দুষ্টুমিভরা চোখ। অপনার তিথিচাচীর কাছ থেকে এসেছে সে।
এই তিনজনের একফোঁটা অবহেলা অপনার সহ্য হয়না। ওরা মেঝেতে পড়ে আছে কেন, সোফায় বসিয়ে দিতে হবে। ওরা চিপস খাবে, চকোলেট খাবে (এমনিতে অপনা বিরাট খাদক; কাউকে ভাগ দিতে চায়না)। কফসিরাপও খাবে। টয়লেটে যাবে। ঠোঁটে একটুখানি লিপজেল মাখবে। ওদের গল্প শোনাতে হবে বই পড়ে পড়ে। সুরুজ মিয়ার পড়াশোনায় মন নেই, তার জন্য বকাঝকা বরাদ্দ। অন্যসময় আদরের চাপে বেচারাদের কাহিল দশা। রাতে ঘুমোবার সময় সে এক দৃশ্য! তিন পুত্রকে একসঙ্গে বুকে নিয়ে পাশবালিশ (এটার নাম আবার বাবুবালিশ বা বেবিপিলো) চেপে ধরা অপনার গায়ের উপর কম্বল বিছিয়ে দিতে হবে। ঘুমের ঘোরে একজনও যদি একটু সরে গেছে তো বিপদ। আমার টেডি কই, ফ্রেডি কুতায় গেলো, হোয়্যাজ মাই রেড সান গন... ... । তখন আঁধারে কম্বলের খাঁজ-ভাঁজ, কোলবালিশের খোল সব হাতড়ে নিখোঁজ নাতিদের খুঁজে ফিরতে হয়।
একটা কথা ভেবে খুবই আনন্দ হচ্ছে। এখন যদি মরেটরেও যাই, শোক সংবাদে লেখার মতো কিছু থাকবে। মৃত্যুকালে তিনি এক কন্যা ও তিন নাতি... ... ...



মন্তব্য
মৃত্যুকালে তিনি এক কন্যা এবং তিন নাতি রাখিয়া গিয়াছেন।
মরার কথা আসলো কই থেকে তারিক !!!!
মনটা ভাল হয়ে গেল পড়ে----
ভাল থাকিস--
অপনাকে আদর--
হ ।
- হাসিব
http://www.nirpata.com
Nice
অক্ষরগুলো এতো ছোট কেন আপু ?
আমার মতন কানা মানুষের পড়তে খবর হয়ে যায়।
অপনার বাচ্চাগুলোর কথা পড়ে মজা পেলাম।
অপনাকে অনেক অনেক আদর।
আর তোমার জন্য শুভকামনা।
অনেকদিন দেখিনি। ভালো থেকো টক্স।
হা হা হা
- প্রান্তজনের কথা
হা হা। আমার সাথে মিলেছে। আমিতো বেশ কয়েকজনের নানা ।
থ্যাংকস রায়হান। ভালো থাকুন নাতিনাতনীদের নিয়ে
নতুন লেখা কৈ ?
আইলাম আন্টি, বলেনতো আমি কেডা?
বলতে পারলে ইমেইলে জানায়ো
ভাতিজা বা ভাগ্না কেউ হবে...
একটা ক্লু দেই। র দিয় নাম শুরু, ভার্চুয়াল-রিয়েল লাইফ দুটাই। বুকা কিসিমের লোক হিসাবে পরিচিত। তারপরও না চিনলে আফসুস।
অ:ট: নুশেরাইটিসের চিকিতসা কেমন চলছে?
চিনবো না মানে!
মিস করি ম্যালা।
দারুন। অবশ্য অনেকদিন আগেই পড়েছি।
নতুন লেখার খোজে উকি দিয়ে গেলাম। নতুন লেখা কই?
আরে ডলফিন দেখছি
লেখালেখি আসে না
hmmmmmmm
বলে বুঝানোর উপায় নাই নুশেরা'পু। খুব মজা আপনার লেখা।
অজ্ঞাতের নামটি জানলে কতো ভালো লাগতো, বলে বুঝানোর উপায় আমারও নাই
হা, হা, হা...কল্পনা করে মজা লাগলো, নুশেরার চারপাশে তিন-তিনটা নাতি কিলবিল করছে...হা, হা, হা...নুশেরা, এই চান্সে আমিও নানী হয়ে গেলাম। হা, হা, হা...!!!
এবার নাতিদের দেখতে আসো
নতুন মন্তব্য করুন