বইটা তাহলে আসছে!

autismbook_front.png

রাত আড়াইটা। টুকটাক লেখার চেষ্টা করছি। একটা মেসেজ এলো। নিশ্চয়ই দেশ থেকে। কোন দুঃসংবাদ না তো? উৎকণ্ঠা নিয়ে খুলে দেখি খবর খারাপ না, বরং ভালো। একটা বইয়ের জন্য কাজ করেছিলাম, বইটা ছাপা হয়ে গেছে। প্রকাশক তাম্রলিপির রনিভাই জানিয়েছেন, ফেব্রুয়ারির ৭ তারিখে বইমেলায় আসবে শিশুর অটিজমঃ তথ্য ও ব্যবহারিক সহায়তা

বইটা ছাপা হয়ে গেছে! কেমন হয়েছে দেখতে? কে জানে! প্রচ্ছদে অপনার আঁকা ছবিটা কেমন দেখাচ্ছে? ভেতরের ছবিগুলো কেমন এসেছে? জাফর স্যারের লেখা মুখবন্ধ? আট ফর্মার বই হবার কথা... কেমন হয়েছে? কবে হাতে পাবো!.......

শিশুর গ্রস ও ফাইন মোটর ক্রিয়াক্রমের উন্নতির জন্য কী করবেন

সন্তানের অটিজম আছে এমন অভিভাবকদের জন্য

মোটরস্নায়ু কোন কাজ করার সময় শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় করে। এ স্নায়ুর জন্যই দেহের ভারসাম্য রেখে একপায়ে ভর দিয়ে দাঁড়াতে পারা, নির্দিষ্ট লক্ষ্যে কোন কিছু ছুঁড়তে পারা, ডিগবাজি দিতে পারা ইত্যাদি গ্রস-মোটর ক্রিয়া সম্ভব হয়। অটিস্টিক শিশুর মোটরস্নায়ুতে সমস্যা থাকে।

যদি আপনার শিশুর অটিজম শনাক্ত হয়ে থাকে তাহলে খেয়াল করে দেখুন, সে কি কিছুটা সময় এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে? ডান-বাম উভয় পায়ে পালা করে দেখুন। কুতকুত-কিতকিত বা হপস্টেপ খেলার ভঙ্গিতে এক পায়ে লাফিয়ে এগোতে পারে?

শিশুর অটিজম ও অবিন্যস্ত ইন্দ্রিয়ানুভূতি

সন্তানের অটিজম আছে এমন অভিভাবকদের জন্য

আমাদের পাঁচটি ইন্দ্রিয় চোখ, কান, নাক, জিভ ও ত্বকের মাধ্যমে আমরা দৃশ্য, শব্দ, গন্ধ , স্বাদ ও স্পর্শের অনুভূতি পাই। একইসঙ্গে এক বা একাধিক ইন্দ্রিয়ের দ্বারা একাধিক অনুভূতি অর্জন আপনার জন্য অতি সাধারণ বিষয়। কিন্তু আপনার সন্তানের জন্য নয়। আপনার সন্তানের sensory perceptions অর্থাৎ ইন্দ্রিয়সমূহের অনুভূতি সুবিন্যস্ত নয়।

ঘরের মধ্যে ফ্যান চলছে, টিউব লাইট থেকে তীক্ষ্ণ শব্দ আসছে, টেলিভিশনে অনুষ্ঠান চলছে বা গান বাজছে, তার মধ্যে চা খেতে খেতে খবরের কাগজ পড়ছেন, একইসঙ্গে কারও সঙ্গে কথাবার্তা বলছেন- আপনার দৈনন্দিন জীবনের নিয়মিত ঘটনা। কিন্তু আপনার সন্তানের জন্য এতোরকম শব্দ একসঙ্গে শোনা,এতোরকম দৃশ্য দেখা, তার মধ্যে আবার অন্য কাজ চালিয়ে যাওয়া- এটা প্রচণ্ড যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে। তখন তার আচরণে বিরক্তি বা অস্বস্তির প্রকাশ ঘটবে। ঘরের বাইরে রাস্তাঘাটে বা পাবলিক প্লেইসেও একই ঘটনা ঘটতে পারে।

একটি দৃশ্য কল্পনা করুন। বাসায় কেউ এসেছে অথবা আপনার শিশুকে কোথাও নিয়ে গেছেন, এমন অবস্থায় পরিচিত কারো সঙ্গে দেখা হয়েছে। তিনি আপনার সন্তানকে কোলে

অটিজম সচেতনতা: প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ

যে কারণেই হোক না কেন, বাংলাদেশে আমাদের চারপাশের পরিবেশ মূলধারার স্বাভাবিক শিশুদের জন্যই খুব একটা বন্ধুসুলভ নয়। এ অবস্থায় সন্তানের অটিজম থাকলে বাবামায়েরা বাড়তি দুশ্চিন্তায় পড়েন। রাস্তাঘাটে, পাবলিক প্লেইসে, যানবাহনে অধিকাংশ অচেনা লোকজন অটিজম আছে এমন শিশু বা পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির অস্বাভাবিক আচরণের প্রতি বিন্দুমাত্র বিবেচনাবোধ দেখান না। সহৃদয়তা তো বহু দূরের কথা। অসহিষ্ণু মন্তব্য, উপহাস, বিরক্তি কোনকিছুই দেখাতে কার্পণ্য করেন না। শারীরিক আঘাতের ঘটনাও ঘটে। উন্নত দেশগুলোতে শিশুর সঙ্গে রাখা বিশেষ কার্ড দেখিয়ে অনেক জায়গায় আশেপাশের মানুষকে জানিয়ে দেয়া যায় যে এই শিশুটির অটিজম আছে, তার কাছ থেকে কিছু ব্যতিক্রমী আচরণে অন্যদের সহনশীলতা কাম্য। কিন্তু আমাদের মতো জনবহুল এবং সচেতনতার অভাবগ্রস্ত দেশে এই অবস্থা আসতে এখনও অনেক দেরী বলেই অনুমান করতে পারি। আমরা সাধারণ সুস্থ মানুষেরা তাদের দুর্বলতার বিষয়টিই উপলব্ধি করতে পারিনা। এটার নাম দেয়া হয়েছে হিডেন ডিজেবিলিটি; কারণ এখানে অক্ষমতাটা প্রকাশ্য নয়। আমাদের দেশীয় প্রেক্ষাপটে দুর্বল কাউকে সম্মান করার সংস্কৃতি এখনও গড়ে উঠেনি।

যখন পরিবারে একটি

হারিয়ে গ্যাছে খুঁজে পাবোনা...

আমার মা ভুলোমনা গোছের মানুষ। একদঙ্গল অপদার্থের সংসারে সারাদিন শতকোটি ঝামেলা একা সামলে চাকরিও একটা করেন। বিশাল পরিবারের মুরুব্বী হিসেবে সবার খোঁজখবরও তাকে রাখতে হয়। বয়সের ভারে নুয়ে পড়ার বহু আগেই শরীরে নানান উপসর্গ বাঁধিয়ে বসেছেন। তাই মায়ের ভুলোমনা স্বভাবকে আমরা বিশেষ আমল দিইনা। বরং এর সুযোগ নিই পুরোদমে। ছাত্রজীবনে এক পিকনিকের চাঁদা তিনবার চেয়ে তিনবারই পেয়ে গেছি, এমন নজিরও আছে। সেটা জানান দেয়ার পর আবার অপ্রস্তুত মুখে বলেও ফেলতেন, যাহ্ কী বলিস, তুই মজা করছিস না তো আমার সাথে?

দুধওয়ালার টাকাটা কোথায় যেন রেখেছেন, ভুলে যান। পেপারের বিল হারিয়ে বাবার মেজাজের ভয়ে চুপি চুপি হকার ছোকরাকে বাড়তি টাকা ধরিয়ে দিতে গিয়ে শোনেন সেটা ক'দিন আগে তিনি নিজেই চুকিয়েছেন। ওষুধ কিনতে হবে, প্রেসক্রিপশন হারিয়েছেন; তালা খুলতে হবে, চাবিটা এই মাত্র কোথায় রাখলেন ভুলে গেছেন; রান্নাঘরের তাক থেকে পাঁচফোড়নের কৌটোটা গায়েব হয়ে গেছে; দু'দিন হয়ে গেলো মোবাইল ফোনটা পাচ্ছেননা; চিরুনিটা জায়গামতো নেই, ব্যাংকের চেকবইটা উধাও-- এসব মায়ের জন্য অতি সাধারণ ঘটনা। দিনের মধ্যে অনেকবার তাকে দেখা যায় কীসব বিড়বিড় করছেন। কিছু বলছো মা?

This site has Unicode encoded Bangla texts. For best viewing, use Falgunee or AponaLohit font. Download any of these fonts and copy to your Windows\Fonts directory. You might need to set the font in the Preference or Options box of the browser software.

সাম্প্রতিক মন্তব্য